ছুটি বাড়ছে না, ৩১ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস, তবে গণপরিবহন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

0
695

 

সরকারি ছুটি আর বাড়ছে না। সীমিত আকারে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত এবং শিল্প কলকারখানা খুলে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব কর্মকাণ্ড চালাতে হবে। তবে গণপরিবহন, যাত্রীাবাহী নৌযান ও ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধই থাকছে। অবশ্য কর্মস্থলে যাওয়ার গাড়ি ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলতে পারবে। এ ছাড়া কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিমান চলাচল করতে পারবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজ বুধবার বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে ২০২০) প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। ইতিমধ্যে সাত দফায় ছুটি বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটির বাড়ানো হয়। এক মাস রোজা শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়ে গেল দুদিন আগে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সর্বশেষ ঘোষিত সাধারণ ছুটিও শেষ হচ্ছে তিন দিন পর, ৩০ মে। এ অবস্থায় ছুটি আরও বাড়বে কি না, সেটিই এখন অনেকের জিজ্ঞাসা।

এমন অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে ছুটির বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত আসল। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৩০ মে ছুটি শেষ হচ্ছে। এরপর নাগরিক জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্থনৈতিক কমকাণ্ড এবং অফিস-আদালত সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হবে। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ ব্যবস্থায় সীমিত আকারে খুলতে পারবে। সে ক্ষেত্রে বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী কর্মীরা কর্মস্থলে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে মাস্কপড়াসহ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ১৩ দফা মানতে হবে।

 

দোকান পাট, ব্যবসা কেন্দ্র আগের মতো সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে আরও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। যাত্রীবাহী গণপরিবহন, নৌযান, ট্রেন পুরোপুরি বকন্ধ থাকবে। তবে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য কর্মস্থলের গাড়ি ও ব্যক্তিগত এবং হালকা যান চলতে পারবে।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো যেমন এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ মানা হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবহন পথে চেকপোস্ট কড়াকড়ি করা হবে।এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধই থাকবে। তবে অনলাইন বা অন্যান্য ভার্চুয়াল ক্লাস অব্যাহত থাকবে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা সচল রাখাও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আবার করোনা পরিস্থিতিও অবনতি হচ্ছে। এই চিন্তা থেকেই সীমিত আকারে সব কিছু খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সর্বশেষ ছুটির প্রজ্ঞাপনের সময়ই কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিথিল করা হয়েছিল। দোকানপাট, তৈরি পোশাক কারখানাসহ কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকও চালু আছে। অফিসও প্রয়োজনে খোলা রাখা যাচ্ছে।

 

তবে ছুটির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল ছুটির সময় জনসাধারণ ও সব কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্বাস্থ্য বিভাগের জারি করা নির্দেশনা (স্বাস্থ্যবিধি) কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত যানবাহন (ট্রাক, লরি, কার্গো ভেসেল ইত্যাদি) ছাড়া অন্যান্য গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও যাত্রীবাহী ট্রেনও বন্ধ থাকবে। এমনকি অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচলও বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি সেবা ও গণমাধ্যমসহ কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ছুটির বাইরে আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here